এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৪ লাখের বেশি আবেদন, সময়সীমা বাড়ানো হল
স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গত শুক্রবার পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ৩৫ হাজারেরও বেশি শূন্য শিক্ষক পদ পূরণের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, এই বিপুল সংখ্যক আবেদন সত্ত্বেও, অনেকেই এই সংখ্যাটিকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন না। বিকাশ ভবনের কিছু কর্মকর্তার মতে, এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অতীতে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১৪ জুলাই। তবে, আরও প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দিতে কর্তৃপক্ষ এই সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এসএসসি শিক্ষক ২০২৫ ,৯-১০,১১-১২ ফর্ম ফিলাপের ডেট ২১.০৭.২৫ পর্যন্ত বাড়লো।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার মানের উপর প্রভাব পড়ছে। এই শূন্যপদগুলো পূরণের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে এসএসসি। কিন্তু, আবেদনের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে, অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ এই প্রক্রিয়ার উপর ছায়া ফেলেছে। অনেক প্রার্থী মনে করছেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যার ফলে তারা আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
বিকাশ ভবনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এসএসসি নিয়োগে অতীতের কিছু ঘটনা প্রার্থীদের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। আমরা চাই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হোক। তবে, এই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।” তিনি আরও বলেন, সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে আরও বেশি প্রার্থী আবেদন করতে পারেন এবং শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করা যায়।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য আবেদনের শেষ তারিখ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অনেকের কাছে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এর ফলে যারা এখনও আবেদন করতে দ্বিধা করছিলেন, তারা নতুন করে সুযোগ পাবেন। তবে, শুধু সময়সীমা বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
এসএসসি নিয়োগে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, কিছু ক্ষেত্রে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ এবং যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলো সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। ফলে, অনেক যোগ্য প্রার্থী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতিতে, এসএসসি-র পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে, এই পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি শুধু শূন্যপদ পূরণের জন্যই নয়, বরং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের অভাবে অনেক স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট তীব্র। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, প্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।
এই পরিস্থিতিতে, সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি এসএসসি-র উচিত প্রার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা। এছাড়াও, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সফলতা শুধু শিক্ষক পদ পূরণের উপরই নির্ভর করছে না, বরং এটি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রার্থীদের আস্থা অর্জন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে সফল করা সম্ভব। সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি প্রার্থীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ হতে পারে, তবে এর পাশাপাশি আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা কঠিন হবে।