This Post Contents
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন সহজতর: জানুন কীভাবে করবেন আবেদন
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় সমস্যা, যা নাগরিকের অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিশেষ করে যখন এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমনটি ঘটে, তখন সাধারণ মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েন। বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR 2025) প্রক্রিয়া নিয়ে চলা বিতর্কে হস্তক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে—যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁরা এবার অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আধার কার্ড কিংবা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ১১টি বৈধ নথির যেকোনো একটি ব্যবহার করা যাবে।
বিহারের SIR 2025 সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এখন থেকে আধার কার্ডকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা হবে। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত আরও ১১টি বিকল্প নথি ব্যবহার করা যাবে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
🔑 সুপ্রিম কোর্টের মূল নির্দেশনা
- অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন বাদ পড়া ভোটাররা।
- আবেদনের সময় আধার কার্ড বা ১১টি অনুমোদিত নথির যেকোনো একটি জমা দিলেই হবে।
- কমিশনকে প্রায় ৬৫ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে, জেলা-ভিত্তিক।
- রাজনৈতিক দলগুলোকে বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের সাহায্য করতে হবে।
- ফর্ম জমা দিলে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) রসিদ দেবেন, যা অনলাইনে আপলোড করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান নির্দেশিকাগুলি: এক নজরে
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রতিটি ভোটারের জানা অত্যন্ত জরুরি। এই নির্দেশিকাগুলো হলো:
- আধার কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা: এখন থেকে আধার কার্ড ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে বিবেচিত হবে, যা আগে ছিল না।
- ১১টি বিকল্প নথির সুবিধা: আধার কার্ড না থাকলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত আরও ১১টি বিকল্প নথি ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে।
- অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ: যে সকল ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা এখন থেকে সহজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর বুথ লেভেল এজেন্টরাও এই কাজে সাহায্য করবেন।
- প্রকাশ্যে বাদ পড়া ভোটারের তালিকা: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে প্রায় ৬৫ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার কারণও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা থাকবে। এই তালিকা অনলাইনে এবং প্রতিটি জেলা নির্বাচন ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।
- রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব: সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, তাদের নিজেদের কাজের একটি স্ট্যাটাস রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
📑 কোন কোন নথি বৈধ ধরা হবে?
ক্রমিক | নথির নাম |
---|---|
১ | আধার কার্ড |
২ | ভোটার আইডি (EPIC) |
৩ | পাসপোর্ট |
৪ | ড্রাইভিং লাইসেন্স |
৫ | প্যান কার্ড |
৬ | রেশন কার্ড |
৭ | জাতীয়কৃত ব্যাংক পাসবুক |
৮ | NREGA জব কার্ড |
৯ | স্টেট/সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট আইডি |
১০ | কর্মচারী পরিচয়পত্র |
১১ | শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র |
১২ | পেনশন নথি |
📝 বাদ যাওয়া ভোটারদের কী করতে হবে?
- নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (ceo.bihar.gov.in) লগইন করুন।
- ❗ ‘Name Deletion Grievance’ বা ‘Form for Re-inclusion’ বিভাগে ক্লিক করুন।
- 📌 যে কোনও একটি বৈধ নথির স্ক্যান কপি আপলোড করুন (আধার, EPIC বা তালিকাভুক্ত অন্য নথি)।
- ➡️ আবেদন জমা দেওয়ার পর সিস্টেম জেনারেটেড রসিদ ডাউনলোড করুন।
- 📢 আপনার জেলার নির্বাচনী দপ্তর ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে প্রকাশিত বাদ যাওয়া নামের তালিকা চেক করুন।
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: আমার নাম ভোটার লিস্ট থেকে মুছে গেছে। কী করব?
👉 আপনি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন আধার বা অন্য যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র দিয়ে।
প্রশ্ন ২: কেবল আধার কার্ড কি বাধ্যতামূলক?
👉 না। নির্বাচনী কমিশনের তালিকাভুক্ত ১১টি নথির যেকোনো একটি দিলেই হবে।
প্রশ্ন ৩: বাদ পড়া নামের তালিকা কি অনলাইনে পাওয়া যাবে?
👉 হ্যাঁ, জেলা অনুযায়ী অনলাইনে ও স্থানীয় কার্যালয়ে টাঙ্গানো হবে।
প্রশ্ন ৪: রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কী?
👉 তাঁদের বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-রা ভোটারদের আপত্তি ও আবেদন করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করবেন।
প্রশ্ন ৫: পুনরায় শুনানি কবে?
👉 আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
🔎 উপসংহার
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন আর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানেই ভোটাধিকার হারানো নয়। আধারসহ ১১টি নথির যেকোনো একটি দেখিয়েই আবেদন করা যাবে সহজে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা।