This Post Contents
WB Shram Sri scheme-‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প
এখানে দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ পোস্ট তৈরি করা হল।
‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প: বাংলা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এক নতুন দিশা
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলা পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে হেনস্থা এবং আক্রমণের খবর উঠে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষত, বাংলা ভাষা এবং বাঙালি পরিচয়ের জন্য তাদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘শ্রমশ্রী’ নামক একটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, যা ভিন রাজ্যে হেনস্তার শিকার হয়ে বাংলায় ফিরে আসা শ্রমিকদের আর্থিক এবং সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করবে।
কেন এই প্রকল্প?
বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা এবং ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে প্রায় ২২ লক্ষ শ্রমিক এই ধরনের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, রাজ্য সরকার এই অসহায় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পটি শুধুমাত্র বাংলার শ্রমিকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা সম্মান এবং সুরক্ষা নিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসতে পারে।
‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের সুবিধা কী কী?
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, ভিন রাজ্যে অত্যাচারিত হয়ে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা তৈরি করা। এর আওতায় নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে:
- এককালীন আর্থিক সহায়তা: যে সকল শ্রমিক ফিরে আসছেন, তাদের প্রত্যেককে এককালীন ৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
- মাসিক আর্থিক সাহায্য: যতদিন না পর্যন্ত তারা নতুন কোনো কাজের ব্যবস্থা করতে পারছেন, ততদিন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
- পরিচয়পত্র: এই শ্রমিকদের জন্য একটি ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল তৈরি করা হবে, যেখানে তাদের নাম নথিভুক্ত করা হবে এবং তারা একটি বিশেষ পরিচয়পত্র বা আই-কার্ড পাবেন।
- শিক্ষার সুযোগ: তাদের সন্তানদের স্কুলের ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যদিও রাজ্যের বাইরে থেকে প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে আসেন, এই বিশেষ প্রকল্পটি কেবল মাত্র সেইসব বাংলা শ্রমিকদের জন্য, যারা ভিন রাজ্যে ভাষা এবং পরিচয়ের কারণে হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
এই উদ্যোগটি পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে এক নতুন আশার আলো জাগাচ্ছে। এটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং নিজেদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সম্মান এবং সুরক্ষার একটি বার্তা। ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প ভবিষ্যতে বাংলা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

এই বিষয়ে আপনার কী মত? আপনি কি মনে করেন এই প্রকল্প বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে? নিচে আপনার মতামত জানান। Click here to know more.
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, বরং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার এবং সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে নতুন কী সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ভিন রাজ্যে হেনস্তার শিকার হয়ে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য কেবল এককালীন সহায়তা নয়, বরং এক বছর পর্যন্ত মাসিক আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শ্রমিকরা নতুন কাজ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের পরিবার যেন আর্থিক সংকটে না পড়ে।
- মাসিক ৫০০০ টাকা: ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করলে শ্রমিক পরিবারগুলো প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবে। এই সহায়তা এক বছর পর্যন্ত বা কাজ না পাওয়া পর্যন্ত দেওয়া হবে।
- স্বাস্থ্যসাথী এবং খাদ্যসাথী: এই প্রকল্পের আওতায় থাকা শ্রমিকরা রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
- ‘উৎকর্ষ বাংলা’র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ: শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে তারা বিভিন্ন শিল্পে নিজেদের কর্মসংস্থান খুঁজে নিতে পারবেন এবং স্বনির্ভর হতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিন রাজ্যে অত্যাচারিত বাঙালি শ্রমিকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ পুনর্বাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে তারা শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকারের সহায়তা পাবেন।
FAQs(এখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প সম্পর্কিত কিছু সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো:)
১. ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প কী?
‘শ্রমশ্রী’ হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি নতুন প্রকল্প, যার মাধ্যমে ভিন রাজ্যে হেনস্তা বা অত্যাচারের শিকার হয়ে বাংলায় ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক এবং সামাজিক পুনর্বাসন দেওয়া হবে।
২. কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সেই সব পরিযায়ী শ্রমিকেরা, যাঁরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষা বা বাঙালি পরিচয়ের কারণে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং রাজ্যে ফিরে এসেছেন।
৩. এই প্রকল্পের আওতায় কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
এককালীন আর্থিক সহায়তা: ফিরে আসা প্রত্যেক শ্রমিককে এককালীন ৫,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
মাসিক আর্থিক সাহায্য: যতদিন না তারা নতুন কাজ পাচ্ছেন, ততদিন সরকার থেকে মাসিক সাহায্য দেওয়া হবে (সর্বোচ্চ এক বছর)।
পরিচয়পত্র: এই শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষ ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল তৈরি করা হবে এবং তাদের একটি আই-কার্ড দেওয়া হবে।
শিক্ষার সুযোগ: তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।
৪. প্রকল্পের সুবিধা পেতে কীভাবে আবেদন করতে হবে?
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে এই শ্রমিকদের জন্য একটি ‘শ্রমশ্রী পোর্টাল’ তৈরি করা হবে। সেখানে নথিভুক্তির মাধ্যমে এই সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে। তবে বিস্তারিত আবেদন প্রক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি।
৫. শুধুমাত্র বাংলা থেকে যাওয়া শ্রমিকরাই কি এই সুবিধা পাবেন?
হ্যাঁ, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য, যারা ভিন রাজ্যে ভাষা বা পরিচয়ের কারণে অত্যাচারিত হয়েছেন।
৬. কত সংখ্যক শ্রমিক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন?
মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ লক্ষ শ্রমিক ভাষা-সংক্রান্ত হেনস্তার শিকার হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ২,৭০০ পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।
৭. এই প্রকল্পটি কি স্থায়ীভাবে চালু থাকবে?
আপাতত ঘোষণা করা হয়েছে যে ফিরে আসা শ্রমিকেরা এক বছর পর্যন্ত মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে প্রকল্পের স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আমি বেঙ্গালুরু, সিকিম, হায়দরাবাদে কাজ করতাম
Hi
Amar samari