This Post Contents
এসএসসি (WBSSC) নিয়োগ মামলা: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে চলছে শুনানি!
কলকাতা হাইকোর্টে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তপ্ত আইনি লড়াই চলছে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ এসএসসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চে দায়ের করা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে এবার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছেন। এই মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের দাবিগুলির মধ্যে একক বেঞ্চ কেবলমাত্র ‘অযোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে নিষেধ’-এর আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—নতুন নিয়োগ বিধি বাতিল, বয়সসীমার তারতম্য খারিজ এবং ন্যূনতম যোগ্যতার নম্বর ও বিন্যাস বাতিল—মঞ্জুর হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীরা এখন বিচারপতি সৌমেন সেন ও স্মিতা দাস দেবের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে এই মামলার শুনানি চলছে, এবং এর ফলাফলের দিকে লক্ষ্য রয়েছে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর।
মামলার পটভূমি
এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই এর বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, নতুন নিয়োগ বিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত শর্তাবলী অনেক প্রার্থীর জন্য বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষত, বয়সসীমার তারতম্য এবং ন্যূনতম যোগ্যতার নম্বর নির্ধারণের মতো বিষয়গুলি বহু প্রার্থীর জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রার্থীরা প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন।
একক বেঞ্চে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। প্রথমত, নতুন নিয়োগ বিধি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি। দ্বিতীয়ত, বয়সসীমার তারতম্য বাতিল করা। তৃতীয়ত, ন্যূনতম যোগ্যতার নম্বর এবং এর বিন্যাস বাতিলের আবেদন। এবং চতুর্থত, অযোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে নিষেধ করা। একক বেঞ্চ এই চারটি দাবির মধ্যে কেবল শেষটি মঞ্জুর করেছে, অর্থাৎ অযোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বাকি তিনটি দাবি খারিজ হয়ে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছেন।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি ও যুক্তি
চাকরিপ্রার্থীদের মূল অভিযোগ, নতুন নিয়োগ বিধি এবং এর শর্তাবলী অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক। তাদের দাবি, এই নিয়মগুলি বহু যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করছে। বিশেষত, বয়সসীমার তারতম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রার্থীরা দাবি করছেন যে এটি অনেকের জন্য নিয়োগের সুযোগ সীমিত করছে। এছাড়াও, ন্যূনতম যোগ্যতার নম্বর এবং এর বিন্যাস নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। প্রার্থীদের মতে, এই নিয়মগুলি পরিবর্তন বা বাতিল না করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, অযোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে নিষেধ করার দাবি মঞ্জুর হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও, বাকি দাবিগুলি খারিজ হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, একক বেঞ্চের এই রায় পুরোপুরি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে তারা ডিভিশন বেঞ্চে গিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।
ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি
বিচারপতি সৌমেন সেন ও স্মিতা দাস দেবের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের আইনজীবীরা জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করছেন। তারা দাবি করছেন যে নতুন নিয়োগ বিধি এবং এর শর্তাবলী শুধুমাত্র বৈষম্যমূলক নয়, বরং এটি সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী। তাদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হলে এই বিধিগুলি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
অন্যদিকে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে নতুন নিয়োগ বিধি তৈরি করা হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু ও যোগ্যতার ভিত্তিতে করার জন্য। তারা দাবি করছেন, বয়সসীমার তারতম্য এবং ন্যূনতম যোগ্যতার নম্বর নির্ধারণের মতো বিষয়গুলি প্রার্থীদের মধ্যে যোগ্যতার মান বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে এই যুক্তি মানা হচ্ছে না।
সম্ভাব্য ফলাফল ও প্রভাব
এই মামলার ফলাফলের উপর নির্ভর করছে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ। যদি ডিভিশন বেঞ্চ চাকরিপ্রার্থীদের দাবি মেনে নতুন নিয়োগ বিধি বাতিল করে বা শর্তগুলি শিথিল করে, তাহলে অনেক প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। এটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারে। তবে, যদি ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের রায় বহাল রাখে, তাহলে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়তে পারে।
এই মামলা শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থীদের জন্যই নয়, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব শিক্ষক নিয়োগের গুণগত মানের উপর পড়তে পারে। তাই এই শুনানির ফলাফলের দিকে সকলের নজর রয়েছে।
উপসংহার
এসএসসি নিয়োগ মামলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে চলমান শুনানি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই মামলার ফলাফল শুধুমাত্র নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। চাকরিপ্রার্থীরা আশা করছেন যে ডিভিশন বেঞ্চ তাদের দাবি মেনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। শুনানির পরবর্তী ধাপে কী হয়, তা দেখার জন্য সকলেই অপেক্ষা করছেন।



![[Download-PDF]WBSSC Special Educator Notification 2025: Complete Details & Latest Updates,very big news WBSSC Special Educator Notification 2025](https://www.wbedu.in/wp-content/uploads/2025/09/WBSSC-Special-Educator-Notification-2025-218x150.jpg)


