This Post Contents
কলকাতা, ১০ জুলাই ২০২৫: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বহাল রেখেছে। এই রায় অনুসারে, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ (Tainted) হিসেবে চিহ্নিত প্রার্থীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। ফলে, যে ১৮৮ জন প্রার্থী নতুন করে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে। এই রায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। OMR শিটে গরমিল, অবৈধ উপায়ে চাকরি প্রদান এবং অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট ওই বছরের গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয়। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রায় দেন যে, যে সমস্ত প্রার্থীদের ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার যোগ্য নন। আদালতের নির্দেশ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই প্রার্থীদের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।
রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি সৌমেন সেনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে। তাঁদের যুক্তি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট যখন পুরো প্যানেল বাতিল করেছে, তখন ‘দাগি’ ও ‘যোগ্য’ প্রার্থী হিসেবে আলাদা করে বিভাজন করা ঠিক নয়। তবে ডিভিশন বেঞ্চ এই যুক্তি গ্রহণ করেনি এবং সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কেই সমর্থন করেছে।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ও রায়
শুনানির সময় বিচারপতি সৌমেন সেন SSC-এর আইনজীবীর কাছে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন,
- “অযোগ্য প্রার্থীদের জন্য কমিশনের এত সহানুভূতি কেন?”
- “যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, কমিশন তাদের হয়ে কেন সওয়াল করছে? কমিশন কি আদৌ তাদের হয়ে কথা বলার অধিকারী?”
এই কঠোর মনোভাবের পর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ই চূড়ান্ত। ‘দাগি’ প্রার্থীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। এর ফলে, মোট ১৮০১ জন প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবেদন বাতিল হবে।
রায়ের প্রভাব
- আবেদন বাতিল: ১৮৮ জন ‘দাগি’ প্রার্থীর আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে। এটি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
- স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: এই রায়ের ফলে যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যায্য সুযোগ পাবেন।
- রাজ্য ও কমিশনের উপর চাপ: আদালতের কঠোর মন্তব্যের পর রাজ্য সরকার এবং SSC-এর উপর স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চাপ বেড়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. এই রায়ের ফলে কারা প্রভাবিত হবেন?
২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত ১৮০১ জন প্রার্থী এই রায়ের ফলে প্রভাবিত হবেন। তাঁদের মধ্যে ১৮৮ জনের নতুন আবেদন বাতিল হবে।
২. সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় কী ছিল?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে, OMR শিটে গরমিল বা অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে চাকরি পাওয়া প্রার্থীরা নতুন নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন না।
৩. কেন রাজ্য ও SSC এই রায়ের বিরোধিতা করেছিল?
তাঁরা যুক্তি দিয়েছিল যে, সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করেছে, তাই ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ হিসেবে প্রার্থীদের ভাগ করা ঠিক নয়। তবে ডিভিশন বেঞ্চ এই যুক্তি খারিজ করেছে।
৪. এই রায় কি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনবে?
হ্যাঁ, এই রায়ের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত হবে।
৫. এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?
রাজ্য সরকার বা SSC এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারে। তবে বর্তমানে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ই কার্যকর থাকবে।
উপসংহার
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



![[Download-PDF]WBSSC Special Educator Notification 2025: Complete Details & Latest Updates,very big news WBSSC Special Educator Notification 2025](https://www.wbedu.in/wp-content/uploads/2025/09/WBSSC-Special-Educator-Notification-2025-218x150.jpg)


