Home DA NEWS ROPA 2019: ডিএ অনিশ্চয়তা, HRA কমানো ও বৈষম্য—হাইকোর্টে নজর ২৭ তারিখে

ROPA 2019: ডিএ অনিশ্চয়তা, HRA কমানো ও বৈষম্য—হাইকোর্টে নজর ২৭ তারিখে

ROPA 2019: ডিএ অনিশ্চয়তা, HRA কমানো ও বৈষম্য—হাইকোর্টে নজর ২৭ তারিখে

আইনি আপডেট (Legal Update): কলকাতা হাইকোর্টে রোপা ২০১৯ (ROPA 2019) সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে আগামী ২৭ তারিখ সোমবার ধার্য করা হয়েছে।

রোপা ২০১৯ (ROPA 2019) বা ষষ্ঠ বেতন কাঠামো ঘিরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ এবং আইনি লড়াই ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। সরকারি কর্মীদের আপত্তি এখন মূলত তিনটি বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত—ডিএ (DA) নিয়ে স্পষ্ট নীতির অভাব, এইচআরএ (HRA) কমানো এবং ভাতার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য।

১. কলকাতা হাইকোর্টে মামলার বর্তমান পরিস্থিতি

সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মধুমতি মিত্র ও বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। তবে নির্ধারিত দিনে পূর্ণাঙ্গ শুনানি না হওয়ায় আদালত রাজ্যপক্ষকে সময় দেয়। পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে আগামী ২৭ তারিখ সোমবার ধার্য করা হয়েছে। আগামী শুনানিতে কর্মীদের মূল দাবিগুলো নিয়েই তীব্র আইনি বিতর্ক হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

২. রোপা ২০১৯-এর প্রেক্ষাপট ও ক্ষোভের সূত্রপাত

রাজ্য সরকার ২০১৯ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশন (6th Pay Commission) বা রোপা ২০১৯ কার্যকর করে। খাতায়-কলমে এটি ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে নোশনালি (Notionally) কার্যকর হলেও, সরকারি কর্মীরা এর আর্থিক সুবিধা পেতে শুরু করেন ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে। কিন্তু শুরু থেকেই কো-অর্ডিনেশন কমিটি সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন দাবি করে আসছে যে, এই নতুন বেতন কাঠামোতে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, বরং পূর্বের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।

৩. রোপা ২০১৯ নিয়ে কর্মীদের মূল অভিযোগসমূহ

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে নতুন বেতন বিধিতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি মূলত তিনটি বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে:

অভিযোগের বিষয় বর্তমান পরিস্থিতি ও কর্মীদের দাবি
ডিএ (DA) অনিশ্চয়তা HOT নতুন বেতন বিধিতে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নির্ধারণের কোনো স্পষ্ট ফর্মুলা রাখা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
HRA হ্রাস আগের বেতন কমিশনের তুলনায় এইচআরএ (House Rent Allowance) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কর্মীদের মাসিক আয়ে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ভাতার বৈষম্য IMPORTANT ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গভবন ও চেন্নাইয়ে কর্মরত কর্মীরা তুলনামূলক বেশি হারে ডিএ ও এইচআরএ পাচ্ছেন, যেখানে রাজ্যের সাধারণ কর্মীরা কম সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

৪. রাজ্য সরকারের যুক্তি বনাম কর্মীদের দাবি

আদালত কক্ষে রাজ্য সরকার বারবার কোষাগারের বেহাল অবস্থার (Financial crunch) কথা তুলে ধরেছে। রাজ্যের দাবি, সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যেও তারা সাধ্যমতো ডিএ বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ ও অন্যান্য কর্মচারী সংগঠনগুলির পাল্টা যুক্তি হলো—সংবিধান অনুযায়ী ডিএ এবং ন্যায্য বেতন কর্মীদের মৌলিক অধিকার, এটি কোনোভাবেই সরকারের দয়া বা অনুদান নয়। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়েও এই কথার উল্লেখ রয়েছে।

৫. গ্র্যান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি

রোপা ২০১৯-এর এই মামলা শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এই মামলায় ভবিষ্যতে গ্র্যান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) কর্মীদেরও (যেমন- সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সে জন্য আলাদা একটি হলফনামা জমা দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে মামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে চলেছে।

৬. পেনশনারদের প্রতীক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

শুধুমাত্র কর্মরত সরকারি কর্মীরাই নন, এই রাজ্যে লাখ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মী (Pensioners) এবং পারিবারিক পেনশনাররাও (Family Pensioners) এই মামলার দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন। হাইকোর্টের রায় যদি কর্মীদের পক্ষে যায় এবং রাজ্যকে রোপা ২০১৯ সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য ভাতা বাবদ এক বিপুল অঙ্কের আর্থিক দায়ভার বহন করতে হতে পারে।

৭. সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মধুমতি মিত্র ও বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে আগামী ২৭ তারিখ সোমবার ধার্য করা হয়েছে।
ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ রাজ্যে নোশনালি (Notionally) ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে কার্যকর হলেও, এর আর্থিক সুবিধা দেওয়া শুরু হয় ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীদের এইচআরএ (House Rent Allowance) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, বঙ্গভবন ও চেন্নাইয়ে কর্মরত সরকারি কর্মীরা তুলনামূলক বেশি হারে ডিএ ও এইচআরএ পাচ্ছেন, অথচ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সরকারি কর্মীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হ্যাঁ, ভবিষ্যতে এই মামলায় গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সে জন্য ইতিমধ্যেই আলাদা হলফনামা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here