WB Primary case in SP 2023:নিয়োগে অনিয়মের কথা কবুল পর্ষদেরই! ঘুষ দিয়ে চাকরি মিলেছে, এমন রিপোর্ট তো দেয়নি সিবিআই!

0
54

WB Primary case in SP 2023: আদালতে ভুল স্বীকার পর্ষদের, ৬ নম্বর পেয়ে চাকরি অথচ ১ নম্বর পাওয়ারা অযোগ্য! প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের! প্রাথমিকে নিয়োগে যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে তা মেনে নিল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদই। চাকরি ফিরে পেতে সিবিআইয়ের ২৮ পাতার তদন্ত রিপোর্টকেই হাতিয়ার করলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। যার বিরোধিতা করতে পারল না তদন্তকারী সংস্থাও। সুপ্রিম কোর্টে বুধবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস এবং বিচারপতি শুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চে প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।

আজকে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ হিয়ারিং রয়েছে সুপ্রিমকোর্টে (WB Primary case in SP 2023) সেখানেই আজকেই এই বিষয়ে আরও আপডেট আসবে বলে মনে করা হচ্ছে!

Click Here to Get official notice and PDF file

২০১৪ সালের টেটের নিয়োগের অনিয়ম হয়েছে এই নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিমকোর্টে! প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু এবং বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চে শুনানি চলছে। আজও চলবে। বুধবার শুনানিতে চাকরিহারা শিক্ষকদের আইনজীবী পি এস পাটওয়ালি এবং মীনাক্ষি অরোরা বলেন, ‘ঘুষ দিয়ে চাকরি মিলেছে, এমন রিপোর্ট তো দেয়নি সিবিআই। কোথাও কোনও টাকার লেনদেনের কথা বলা নেই। তাহলে চাকরি যাবে কেন? তাছাড়া যে ওএমআর শিটের ভিত্তিতে ২৬৯ জনের চাকরি বাতিল করেছে হাইকোর্ট, সেই একই ডিজিটাল ওএমআর শিট দেখে কী করে ১৮৬ জন নতুনকে নিয়োগ নির্দেশ দেওয়া হল?’

সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, কলকাতায় দু’জন উর্দু মাধ্যমের পরীক্ষার্থী বাংলা মাধ্যমে পরীক্ষা না দিলেও বাড়তি এক নম্বর পেয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। পর্ষদের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্তের দাবি, “২৭০ জনের মধ্যে দু’জন ছাড়া সকলেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য। দু’জনের ক্ষেত্রে খুব সম্ভবত ভুল হয়ে থাকতে পারে। অথবা আরও অন্য কিছু থাকতে পারে। তা নিয়ে তদন্ত চলছে,সত্য প্রকাশ পাবে।” বিচারপতি ধুলিয়া মন্তব্য করেছেন, “এটা শুধু ভুল নয়,বড় ভুল।”

WB Primary case in SP 2023

WB Primary case in SP 2023:
WB Primary case in SP 2023

আরও পড়ুন- :সকলকে 6 নম্বর দেওয়া নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১৪ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভাবিত হবে!

চাকরি না পাওয়াদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, ৪২ হাজার ৯৪৯ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও কেন চাকরি পেল ৪০ হাজার ৪০০ জন? যোগ্য প্রার্থী থাকার পরেও কেন দু’হাজার পদ খালি রাখা হল? যে ওএমআর শিটে গরমিলের অভিযোগে ২৭০ জনের চাকরি খারিজ করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, তার ভিত্তিতেই তিনি কী ভাবে ১৮৬ জনকে চাকরিতে বহাল করলেন? তাঁদের দাবি, এই চাকরি খারিজ করা বেআইনি। ২৭০ জন যোগ্যতামানের তুলনায় এক নম্বর কম পেয়েছিলেন। পর্ষদ এক নম্বর বেশি দেওয়ায় তাঁরা টেট-উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। দুর্নীতি বা টাকার লেনদেন হয়নি। সিবিআই সুপ্রিম (WB Primary case in SP 2023) কোর্টকে দেওয়া রিপোর্টে জানিয়েছিল!

চাকরিহারাদের আইনজীবী পি এস পাটোয়ালিয়ারি প্রশ্ন তোলেন, “যে ওএমআর শিটে গরমিলের অভিযোগে ২৭০ জনের চাকরি খারিজ করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, সেই ওএমআর শিটের ভিত্তিতে কিভাবে ১৮৬ জনের চাকরি বহাল করা হল? একই বিচারের মঞ্চে দুটি মানদণ্ড হয় কী করে?” তাঁর সওয়ালের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার প্রশ্ন, “একজন ৬ নম্বর পেয়ে ৯০-এ পৌঁছলে সেটা যোগ্য মনে করছেন হাইকোর্টের বিচারপতি, অথচ একজন ১ নম্বর পেয়ে ৯০ পেলেই তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে? দুটোই তো ফ্রড হতে পারে।”

WB Primary case in SP 2023
WB Primary case in SP 2023

প্রাথমিক টেটের দুই উর্দু পরীক্ষার্থী কীভাবে বাংলার অতিরিক্ত নম্বর পেলেন এবং তার জেরে বাংলা স্কুলে শিক্ষকের চাকরি পেলেন? এই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতিরা। সেই প্রশ্নের জবাবে পর্ষদের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত স্বীকার করে নেন, “এটা ভুল হয়েছে। ২৭০ জনের মধ্যে দুজনকে যদি ভুল করে নিয়োগ করা হয়ে থাকে তাহলে তাদের বাদ দিয়ে দেওয়া হোক। তদন্ত চলছে, সত্য প্রকাশ পাবে।” পাটওয়ালিয়া বলেন, ২৭০ জনের মধ্যে উর্দু মাধ্যমের দু’জন বাদ দিলে বাকিরা এর মধ্যে পড়েন না। পর্ষদের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এই ২৭০ জন চাকরি পাওয়ার যোগ্য। বাকিদের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল নাকি আরও বেশি কিছু হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

পর্ষদের আইনজীবী বলেন, ‘উর্দু মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছিলেন ওই দুজন। কিন্তু বাংলায় প্রশ্ন ভুলের ফলে যারা অতিরিক্ত ১ নম্বর পেয়েছেন, সেই সুবিধা পেয়ে গিয়েছেন ওই দুজনও। চাকরিও পেয়েছেন। ওটা সামান্য ভুল হয়ে গিয়েছে।’ কিন্তু কোর্ট বলেছে মটেও এটা সামান্য ভুল নয়,এটা বড় ভুল! এর পর বিচারপতিরা সিবিআইকে প্রশ্ন করেন, “একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দু’রকমের রায় দেওয়া হল কী করে?” সিবিআই-র আইনজীবী এএসজি এসভি রাজু এর কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি৷ তাঁর দাবি, “আমরা মাইক্রো বা ম্যাক্রো নয়, ন্যানো লেভেলে তদন্ত করছি।” আজকে ফের এই মামলার শুনানি হবে (WB Primary case in SP 2023) সুপ্রিম কোর্টে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here