This Post Contents
পশ্চিমবঙ্গের বুকে নতুন ভোট বিপ্লব: কীভাবে ১৩,৮১৬টি নতুন বুথ বদলে দেবে রাজ্যের ভোটের ছবি?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী মানচিত্র এক বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা চলছে, কারণ চূড়ান্ত হতে চলেছে নতুন ভোট কেন্দ্রের তালিকা। জানা গেছে, রাজ্যে মোট ১৩ হাজার ৮১৬টি নতুন ভোট কেন্দ্র বা বুথ তৈরি হতে চলেছে, যা রাজ্যের ভোটের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
কেন এই পরিবর্তন?
ভোটারদের সুবিধার জন্য এবং ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ করতে নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত একটি বুথে সর্বোচ্চ ১৫০০ জন ভোটার ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই সংখ্যা কমিয়ে ১২০০ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—
- ভোটারদের ভিড় কমানো: কম সংখ্যক ভোটার থাকার ফলে বুথে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়ানো যাবে।
- ভোটদান সহজ করা: প্রতিটি ভোটার দ্রুত এবং সহজে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
- পরিচালনার সুবিধা: ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জন্য বুথ পরিচালনা করা আরও সহজ হবে।
এই পরিবর্তনের ফলেই রাজ্যে নতুন করে এতগুলি বুথ তৈরি করার প্রয়োজন পড়েছে।
কীভাবে চূড়ান্ত হচ্ছে বুথের সংখ্যা?
রাজ্যের প্রত্যেক জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তাদের নিজ নিজ জেলার জন্য প্রস্তাবিত বুথের সংখ্যা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন। এই প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ১৩ হাজার ৮৫৩টি নতুন বুথ তৈরি হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি, মোট ৩৭টি বুথকে সংযুক্ত করার এবং ১,২৫৩টি বুথের পরিকাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এমনকি, ৭০৩টি বুথ স্থানান্তরেরও প্রস্তাব এসেছে।
বর্তমানে রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৮১। এই নতুন ১৩ হাজার ৮১৬টি বুথ যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৪ হাজার ৪৯৭।
রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা
বুথ বিন্যাসের এই নতুন খসড়া তালিকাটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত জানার জন্য একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হবে। এই বৈঠক থেকেই প্রাপ্ত মতামত এবং জেলাশাসকদের রিপোর্ট দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। এরপরই কমিশন চূড়ান্ত বুথ সংখ্যা নির্ধারণ করে সরকারিভাবে তা প্রকাশ করবে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণ পুরো পদ্ধতিটিকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে।
জেলাভিত্তিক বুথ চিত্র: কারা এগিয়ে?
জেলাশাসকদের পাঠানো প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বুথ রয়েছে (৮,৮৫৯টি)। নতুন প্রস্তাবিত বুথ সংখ্যা অনুযায়ী, এই জেলায় মোট বুথের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১০,৪১০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৮,৬৫৮টি), যেখানে প্রস্তাবিত সংখ্যা হলো ১০,০৫৪। তৃতীয় স্থানে আছে মুর্শিদাবাদ, যেখানে বর্তমান বুথ সংখ্যা ৫,৮৯৫ এবং প্রস্তাবিত সংখ্যা ৭,১৪৬। এরপরেই রয়েছে হুগলি ও নদিয়া।
এই নতুন পরিবর্তন শুধু ভোটারদের সুবিধা দেবে না, বরং রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলবে। এই উদ্যোগের ফলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে আশা করা যায়।