প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত শুরু করা হয় তার জন্য অভিনব কৌশল অবলম্বন করছেন চাকরিপ্রার্থীরা

0
10

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। লাস্ট যে প্রাথমিকে যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেটা হয়েছে 2017 সালে । তার পর নতুন টেট নেওয়ার জন্য 2017 আবার ফর্ম ফিলাপ করা হয় কিন্তু প্রায় দু-বছর পার হয়ে যাবার পর ও নতুন টেট নিয়ে দিনক্ষণ প্রকাশ তো দূরের কথা ,কত শুন্য পদ কিভাবে নেওয়া হবে পরীক্ষা,প্রশিক্ষণহীনরা আর সুযোগ পাবে কি না ,কিছুই প্রকাশ করা এখনও পর্যন্ত হয় নি।

কিন্তু কেন এত বিলম্ব???

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এর জন্য কোর্টে অতিরিক্ত মামলা কে দায়ী করেছেন।এত এত মামলা পরে রয়েছে কোর্টে যে নতুন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।

কিছুদিন আগেই তিনি নজরুল মঞ্চে জানিয়ে ছিলেন যে নতুন টেট পরীক্ষা নেওয়ার আগে যে সমস্ত স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক আছে তাদেরকে যে স্কুলে শিক্ষক দরকার সেখান ট্রান্সফার করা হবে।পঞ্চম শ্রেণীকে প্রাথমিকে আনার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।তাঁর জন্য যে পরিকাঠামোর প্রয়োজন তা দ্রুত করা হচ্ছে।কিন্তু সামনে অর্থাৎ 2020 সালের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণী আনা হবে কি না সেটা নির্ভর করবে ক্লাস রুম কতটা তাড়াতাড়ি উন্নতি করা হচ্ছে তার উপর। স্বাভাবিক ভাবেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীকে আনলে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের শুন্য পদ বৃদ্ধি পাবে।

অপেক্ষার বাধন ভেঙে এবার চূড়ান্ত কর্মসূচির ডাক টেট আবেদনকারীদের৷ টেট পরীক্ষার সূচি প্রকাশের দাবিতে এবার অনশন কর্মসূচির ডাক চাকরিপ্রার্থীদের৷ সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলেছে টেট বিদ্রোহের প্রস্তুতি৷ সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৯ আগস্ট অনশন কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে ৷ তবে, কোথায় এই অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে, তা এখনও আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়নি ৷ সেই আপডেট পেলেই তা আপনাদেরকে জানানো হবে ।

আন্দোলন এবং অনশনের মাধ্যমে কি নতুন টেট এর দিনক্ষণ ছিনিয়ে আনবেন চাকরিপ্রার্থীরা এখন সেই দিকে থাকবে আমাদের নজর।

অপর দিকে প্ৰথমিকে নতুন টেট নেওয়ার দাবিতে যে মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে সেখানে গত মাসের মাঝামাঝিতে টেট পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশের মামলায় রাজ্যকে তীব্র সমালোচা করে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ টেট পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশের দাবিতে দায়ের হওয়ার মামলার শুনানতে পর্ষদের ভূমিকায় ভর্ৎসনা করে আদালত ৷ বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, টেট এর ফর্ম পূরণের জন্য টাকা নেওয়ার সত্ত্বেও কেন পরীক্ষার নেওয়ার তাঁর কারণ রিপোর্ট আকারে জমা করতে।

মামলার শুনানিতে মামলার আবেদনকারীদের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়, ncte যে নির্দেশিকা রয়েছে তাতে প্রতি বছর এক বার করে টেট পরীক্ষা নেওয়া কথা বলা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন । কিন্তু 2015 সালে শেষ টেট পরীক্ষা হয়েছিল রাজ্যে। তার পর 2016,2017,2018,এবং 2019 প্রায় শেষ হতে চলল কিন্তু এখনও টেট পরীক্ষার বেপারে কোনও দিনক্ষণ সামনে আসেনি।

মামলার জন্য টেট পরীক্ষা না নেওয়ার যে কথা শোনা যায় তার মধ্যে প্ৰধান মামলা হল “প্রাথমিক টেট 2015 ভুল প্রশ্ন মামলা”।প্রতিভা মন্ডল সহ প্রায় 500 জনকে, আদালত oct 2018 এই মামলায়,প্রাথমিক পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছিল যে ঐ সমস্ত মামলাকারীদের খাতা পুনঃ মূল্যায়ন করতে হবে এবং তারা যদি যে কয়টি প্রশ্ন ভুল আছে(প্রায় 6 থেকে 7 টি) সেই নাম্বার দিয়ে যদি পাস মার্ক পায় সেই ক্ষেত্রে তাদেরকে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে 3 মাসের মধ্যে। কিন্তু তারপরে দীর্ঘ 9 মাস কেটে গিয়েছে,আবার কোর্টে হয়েছে নতুন কেস হয়েছে কোর্ট অবমাননার মামলা যার শুনানী চলছে কলকাতা হাইকোর্টে ।

অপর দিকে সুপ্রিম কোর্ট ফেরৎ বসির আহমেদ কেস ও রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।তাঁদের ও সেই একই দাবি।

অর্থাৎ প্রাথমিকে চাকরি থেকে শুরু করে নতুন পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি এখন অনেকটা ঝুলে রয়েছে কোর্টে। কিন্তু বিভিন্ন অভিজ্ঞ মহলের মতে পূজার ঠিক পরে পরে নতুন টেট এর দিনক্ষণ প্রকাশ করতে পারে পর্ষদ।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বেপারে আন্দোলন থেকে শুরু করে কোর্টে মামলার রায় সমস্ত আপডেট পেতে এই ওয়েবসাইটি নিয়মিত ফল করুন সাথে fb page টা like করে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here