শিক্ষকদের হরেক নাম,হরেক বেতন, হরেক কাজ ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিভ্রান্তি !

 যদি প্রাথমিক থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত স্থায়ী শিক্ষকদের পদ বাদ দেওয়া হয় তাহলে লক্ষ্য করা যাবে যে হরেক নামে এবং বেতনে অনেক আংশিক সময় ও অতিথি শিক্ষক কাজ করছেন। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সমস্যা । তাঁরা বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। কিছুদিন আগেই বিভিন্ন কলেজের আংশিক সময় ও অতিথি শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের ৬০ বছর অবধি চাকরির কোনও নিশ্চিত করে ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। 

আরও পড়ুন – আজ পে প্রোটেকশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর , সঙ্গে কলেজ শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি ঘোষণা

কিছু দিন আগে খোদ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর অবধি শিক্ষকদের নানা পোশাকি নাম নিয়ে যে বার বার তাঁকে বিব্রত হতে হয়, সে কথা জানিয়েছিলেন।কিছু দিন ধরেই পার্শ্বশিক্ষকদের  যে আন্দোলন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তাতে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে , পার্শ্বশিক্ষকদের বাম জমানাতেই যখন নিয়োগপত্র দেওয়া হয় কেন তাঁদের শিক্ষকের মর্যাদা দেননি? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ১০,০০০ এবং ১৩,০০০ করেছিলেন।

স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অবধি সাত রকম স্থায়ী ছাড়া ১১ রকমের নানা পোশাকি নামের শিক্ষক রয়েছেন।তাঁদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১)পার্শ্বশিক্ষক প্রাথমিক স্তরে  এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে বেতন ১০,০০০ এবং ১৩,০০০  , ক্লাস ৫ দিন একদিন ফীল্ড ওয়ার্ক,২) সংগঠন শিক্ষক প্রাথমিক স্তরে  কাজ নিয়মিত বেতন ডিএ গেটিং স্কুল।

৩) মাধ্যমিকে বিভিন্ন আবাসিক 8)উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুলে চুক্তি ভিত্তিক পার্টটাইম
শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে ।তাঁদের কাজ ও বেতন ভিন্ন। বৃত্তি মূলক শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আংশিক শিক্ষক/প্রশিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক/প্রশিক্ষক শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে এবং তাঁদেরও বেতন ক্লাস অনুসারে হয়ে থাকে।


৫)কলেজ পার্টটাইম /পূর্ণসময়ের/ অতিথি শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে । তাঁদের অনেক সময় ক্লাস পিছু বেতন  অথবা মাসিক ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে।৬) ঠিক একই রকম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে তাঁদের বেতনও ক্লাস পিছু অথবা মাসিক ভাতা দেওয়া হয়।

এছাড়ারও যখন স্থায়ী  পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে তখনও তখন উক্ত অস্থায়ী পদের শিক্ষকরা এবং পরীক্ষার্থীরা উভয়ই সমস্যায় পড়ছেন । কারণ তাঁদের সংরক্ষণ দেবার দাবি নিয়ে একাধিক মামলা হচ্ছে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে। তার নির্দিষ্ট উদাহরণ গত স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা যেখানে এখনও আপার প্রাইমারি তে পার্শ্বশিক্ষকদের মামলা ঝুলে রয়েছে, ঠিক তেমনই ঝুলে  রয়েছে প্রাথমিকে স্তরে সংগঠক শিক্ষকদের নিয়োগ  নিয়েও  মামলাও ।

আরও পড়ুন – ৫০৭৫ জন প্রার্থীর অর্গানাইজার টিচার পদে আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে ছ’সপ্তাহের মধ্যে !

আরও পড়ুন – আপার প্ৰাইমারী নিয়ে কোর্ট কেসের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

ফলে মনে করা হচ্ছে এতো পদের বিভ্রান্তি দূরকরার জন্য সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে ঐ সমস্ত পদ গুলোকে একত্রিত করে আরও সহজ ভাবে বাস্তবায়ন করা।